রূপগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় হাজী আবু মোহাম্মদ মাসুম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন নারায়নগঞ্জ জেলার ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী আবু মোহাম্মদ মাসুম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে।স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন সেবামূলক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সহায়তা করার বিষয়েও তাঁর ভূমিকার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।
১৯৮৫ সালের জুন মাসে রূপগঞ্জের দক্ষিণনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবু মোহাম্মদ মাসুম। রূপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে মুড়াপাড়া পাইলট হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে ২০০৪ সালে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাসুম জানান, শুরু থেকেই তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁদের বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের উসকানিতেই পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: রিজভী
ওই পরিস্থিতিতে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হন।মাসুমের দাবি, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়েছিল এবং এসব মামলায় তাঁকে মোট নয়বার কারাবরণ করতে হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে হামলা, নির্যাতন, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২০১৩ সালে তাঁকে গুম করে রাখা হয়েছিল এবং একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্ন সময়ে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও সম্পৃক্ত রয়েছেন আবু মোহাম্মদ মাসুম। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সহযোগিতা, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ, ক্রীড়া আয়োজন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে তাঁর অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসার পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নেও তিনি আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন।
আরও পড়ুন: হরিরামপুরে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় তিন আসামি গ্রেফতার
একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, বিপদে সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করেন।চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তাঁর প্রত্যাশা,মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ভাইয়ের নেতৃত্বে স্বপ্নের রুপগঞ্জ ইউনিয়ন গড়তে সকলের দোয়া,জনগণের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে রূপগঞ্জ ইউনিয়নকে একটি উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ ক্ষেত্রে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদকে জনসেবার কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় হাজী আবু মোহাম্মদ মাসুমের সম্ভাব্য নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।





