লালমনিরহাটে ব্যতিক্রমী আয়োজন, চার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বৃহৎ বালিশ খেলার আসর

Shahrier Islam Pallab
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫২ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লালমনিরহাটে ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা বালিশ খেলা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে জেলা কালেক্টরেট মাঠে মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। হাসি, আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে পুরো মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে বালিশ খেলায় অংশগ্রহণ। আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বালিশ খেলার আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিনোদনের এই খেলাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এমন উদ্যোগ উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন: উলিপুরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

সকালে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। এরপর শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত বালিশ খেলা। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রতিযোগিতার আনন্দ, সহপাঠীদের উল্লাস, করতালি আর হাসি-ঠাট্টায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল। পড়াশোনার চিরচেনা ব্যস্ততার বাইরে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলা সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও পারিবারিক আয়োজনে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। সময়ের পরিবর্তনে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার চর্চা কিছুটা কমে এলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এমন আয়োজন নতুন করে সেই সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ প্রদান

শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন একদিকে যেমন মানসিক প্রশান্তি দেয়, অন্যদিকে সহপাঠীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও দলগত অংশগ্রহণের মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আনন্দদায়ক সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনেও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।

চার শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বালিশ খেলার এই আয়োজন শুধু একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, ঐতিহ্যকে ধারণ এবং কলেজজীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরির একটি অনন্য উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জেলা কালেক্টরেট মাঠের এই ব্যতিক্রমী বালিশ খেলার আয়োজন লালমনিরহাটে সৃষ্টি করেছে আনন্দের নতুন আমেজ। এমন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার চর্চা আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।