বিএনপিঃ গনআকাঙ্খার শোয়ারি
আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ কে জামায়াত বলে যে ১৯৭১ হলো "ভারতীয় নীলনকসা" আর আওয়ামী লীগ ৩৬ দিনে জুলাই ২০২৪ কে বলে "আমেরিকান ষড়যন্ত্র"। দুটি বয়ানেই সাধারণমানুষ অর্থাৎ আমজনতা কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ১৯৭১ নিয়ে বাড়াবাড়ি যেমন ভয়ংকর তেমনি ২০২৪ নিয়ে জামায়াতের বাড়াবাড়িটাও বাজে রকমের দৃষ্টিকটু। একদম চোখে লাগে, কানে বাজে। আর একথা আমারা হলফ করে বলতেই পারি যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একমাত্র দল বিএনপি যাদের গণবিরোধী কোন চরিত্র নেই। এ দলটি জন্ম থেকেই গণআকাঙ্খার সাথে থেকেছে সবসময়। বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মাহেন্দ্রক্ষণে এই দল এবং এর নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধান্বিত ও ছিল না এবং ভুলও করেনি কখনো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল তৈরীর আগেও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ঐতিহাসিক কাল রাত্রিতে চূড়ান্ত, কঠিন ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে কুন্ঠা বোধ করেননি। সে রাতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতায় পাকিস্তানি রেগুলার মিলিটারি থেকে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের 'স্বাধীনতার ডাক' দেন মেজর জিয়া।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐ বছরই উন্মাতাল রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের এক পর্যায়ে ঘটনাচক্রে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অভ্যুদয় ঘটে। মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একতরফা একদলীয় বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে ভারসাম্যহীনতার জন্ম দেয়। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াবহ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ৩ রাখা নভেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও কে ফোর্সের প্রধান খালেদ মোশারফের পাল্টা অভ্যুত্থান, তৎকালীন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানের গৃহান্তরীন হওয়া, বর্বরোচিতভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী অস্থায়ী সরকারের নেতৃবৃন্দকে জেলখানায় খুন ইত্যাদি 'গায়ে কাঁটা দেওয়া' ঘটনাপরম্পরার অবসান ঘটিয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিরতা আসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বতঃস্ফুর্ত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সেই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এদেশে মানুষ জিয়াউর রহমানকেই তাদের পরাণের মনিকোঠায় স্থান দেয়। জিয়া প্রকৃত অর্থেই হয়ে ওঠেন এদেশের আমজনতার 'মনের মানুষ'।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাল ধরলেন বাস্তবতার মানুষ
তার ফলাফলে আমরা দেখি যে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধপরবর্তী বিগত ৫৫ বছরে ঘটে যাওয়া তিনতিনটি গণঅভুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে এদেশের জনগণ বিএনপি নেতৃত্বের কাছে আস্থা রেখেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ গঠনে এদেশের জনগন জিয়ায় আস্থা রেখেছিল। সে আস্থায় তারা হতাশ হয়নি বরং জিতেছে এবং টিকেছে। কতটা জিতেছে ও টিকেছে সে আলাপ তথ্য উপাত্ত্য দিয়ে পরেও করা যেতে পারে। সে আলাপ অনেক দীর্ঘ। সেদিকে না যাই। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ এর তত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত দেশের প্রথম সার্বজনীন ও সর্বমহলে স্বীকৃত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপর আস্থা রাখে এদেশের মানুষ। এরপরের ইতিহাস আমাদের নিকট ইতিহাস। ১৯৯০ পরবর্তী ২০০১ পর্যন্ত তিনটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দুটিতে জয়লাভ করে বিএনপি। ২০০১ সালে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ১১৬ টি আসন পেয়ে এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধীদল হিসেবে সংসদে বসে। সেটাও একটা রেকর্ড বটে।বাংলাদেশের গণমানুষের ভরসাস্থল যে বিএনপি তা যে এসব ঘটনাপ্রবাহে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত; আমরা তা বলতেই পারি। ২০০৭ সালের ১/১'র দূরভীসন্ধিমুলক মইনুদ্দীন-ফকরুদ্দীন গং আধীপত্যবাদীদের এজেন্ট সেজে বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্তে মেতে উঠে। এরপর কিভাবে এদেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে হাস্যকর করা হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। সর্বশেষ ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এদেশের মানুষ আস্থা রেখেছে বিএনপির চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের উপর।
কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এদেশের মানুষ যখনই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সূযোগ পেয়েছে ঠিক তখনই বিএনপির কাছে তাদের ভবিষ্যত গড়ার আমানত তাদের স্বপ্ন পুরণের আকাঙ্খা বিএনপিতে সঞ্চয় করেছে। তাই এ দেশ গঠনে বিএনপির দায়দায়িত্ব সবসময় একটু বেশীই। তারেক রহমান তা জেনেশুনেবুঝে ও মেনেই সরকার পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাঙ্খিত জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি খুব বেশী দূরে নয়।
আরও পড়ুন: মানবিক রাজনীতির অনন্ত দিশারী তারেক রহমান
লেখক পরিচিতি : লেখক সাবেক বিসিএস কর্মকর্তা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক





