আসতে না পেরে নতুন চেয়ারম্যান বৈঠক করছেন অনলাইনে
জামায়াত সমর্থক কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংক ঘেরাও, পুলিশের সাথে সংঘর্ষে মতিঝিল রণক্ষেত্র
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে কর্মচারীদের সংঘর্ষে মতিঝিল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে অফিস খোলার প্রথম দিনেই এই সংঘর্ষের ঘটনায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসলামী ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে সংকট চলছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে সাবেক চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করায়, গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এরপরই জামায়াত সমর্থিত 'সচেতন গ্রাহক পরিষদ' ও সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের একটি পদত্যাগপত্র জমা ছিল, যা আজকের বোর্ড মিটিংয়ে গৃহীত হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন: থার্ড টার্মিনালের ফ্লাইওভার থেকে পিকআপ পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত
সরকারি অফিস খোলার প্রথম দিনে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের যোগদান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের লক্ষ্যে আজ পর্ষদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এই সংবাদে গত ৫ আগস্টের পর চাকরিচ্যুত হওয়া এস আলম সমর্থক কর্মচারী জোট নতুন চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানাতে এবং নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়।
অপরদিকে, জামায়াত সমর্থিত কর্মচারী জোট ও সচেতন গ্রাহক পরিষদ নতুন চেয়ারম্যানকে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী 'স্বৈরাচারের দোসর' আখ্যায়িত করে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়াতে এস আলম সমর্থক কর্মচারীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। তবে জামায়াত সমর্থকরা সকাল থেকেই ইসলামী ব্যাংক ঘেরাও করে চেয়ারম্যান-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। সকাল থেকে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারী কর্মচারী ও গ্রাহকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো মতিঝিল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত
এদিকে তীব্র সংঘর্ষের মুখে নতুন চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম সশরীরে ইসলামী ব্যাংকে আসতে পারেননি। ব্যাংকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তিনি অনলাইনে বোর্ড মিটিংয়ে যুক্ত হয়েছেন। পর্ষদের প্রথম মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই মূলত চেয়ারম্যানের আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হয়; কারণ চেয়ারম্যানের লিখিতভাবে অফিসে এসে দায়িত্ব নেওয়ার আলাদা কোনো নিয়ম নেই। পর্ষদের প্রথম বৈঠকে অংশ নেওয়াকেই তাঁর যোগদান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।





