ঢাকার যানজট কমাতে বড় পরিকল্পনা ডিএমপির

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৩ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ভবিষ্যতে জিপিএসভিত্তিক নজরদারি ও পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকেও এগোতে চায় সংস্থাটি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে রাজধানীর ১২টি পয়েন্টে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই সংখ্যা ৬০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে আগামী ছয় মাসে রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ডিআইজি ও সিলেটের কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল

তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ ট্রাফিক সদস্য কর্মরত থাকলেও ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কারণে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। সীমিত জনবল দিয়েও যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে নগরীর ৭৫টি স্থানে সড়ক ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ডিএমপির দাবি, এসব পরিবর্তনের ফলে কোথাও নতুন করে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। বরং মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের অভিযান, সম্পদের তালিকা প্রস্তুত

আনিছুর রহমান উদাহরণ দিয়ে বলেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেট সংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ে আগে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হতো। পরে সেখানে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে ইউ-টার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং ওই স্থানে ট্রাফিক সদস্যের প্রয়োজনও কমে এসেছে।

তিনি জানান, একই ধরনের ডাইভারশন ও সড়ক ব্যবস্থার পরিবর্তন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর এবং কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, শুধু জনবল বাড়িয়ে রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, সড়কের প্রকৌশলগত বিশ্লেষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

বর্তমানে চালু হওয়া সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করা যায়। তবে ভবিষ্যতে উন্নত দেশের মতো অ্যালগরিদমভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে সিগন্যালের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে এবং একাধিক মোড় পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালিত হবে।

তবে বাংলাদেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নত দেশের মতো পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে একেবারে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর আগে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে রাজধানীবাসীর কাছ থেকে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সহযোগিতা পাওয়া গেছে। এতে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার ঘটনা কমেছে।

তবে এখনও ভারী বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতা, সড়ক অবরোধ, মিছিল-সমাবেশ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজ রাজধানীর যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেন আনিছুর রহমান।

তিনি বলেন, অনেক সময় আগাম সমন্বয় ছাড়াই রাতে রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয় বা ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

ডিএমপির আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সড়কের বৈজ্ঞানিক নকশা এবং সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।