বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে যাত্রা শুরু করল স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:০১ অপরাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আরও পড়ুন: ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

পরে পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সাইবার পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু করা হয়েছে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো ও পদায়ন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন গঠিত ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই: ডিসি হারুন

তিনি জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থানা পর্যায়ে ওসির নেতৃত্বে সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই), সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।

অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউনিটটির মোট জনবল ৪ হাজার ৫৯২ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এ জনবল পূর্ণাঙ্গ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সাইবার পুলিশ ইউনিটে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে ইউনিটটিতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট এবং ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন পদে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এসব বিশেষজ্ঞের জন্য আলাদা আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ ইউনিটে নিয়োজিত করা হবে।

ইউনিটের ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে নিয়োজিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অবদানের ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের মতো অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল ও ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তের সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষায়িত এই ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ দমন এবং প্রতিরোধে সক্ষমতা আরও বাড়বে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।