ঢাবি-ফ্রান্স দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ শেষ

Shahrier Islam Pallab
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পানির স্তরসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণে কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্রান্স দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এম এ লতিফ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৬০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে শেখ মুজিবসহ ৫ হলের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্স (ICOG), সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাস যৌথভাবে ‘বাংলাদেশী ব-দ্বীপ অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য পানির স্তর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের কারিগরি সক্ষমতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

আরও পড়ুন: জবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে বাসের ব্যবস্থা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপীয় দেশ এবং উত্তাল সমুদ্র ও পরিবর্তনশীল জলবায়ুর মধ্যে দেশের মানুষ বসবাস করছে। উপকূলকে যত নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে, তত ভালোভাবে তা সুরক্ষা দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময় এবং বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোকে জাতীয় সক্ষমতায় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কোনো তথ্য সঠিকভাবে পরিমাপ, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ করা না হলে তা কার্যকর হয় না। উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি সমানভাবে প্রযোজ্য।

উপাচার্য বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপকূলকে হাতেকলমে জানার প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি দেশের ব্লু ইকোনমি-সংক্রান্ত জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারে দক্ষ জনবল তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ও ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের একটি বড় অংশ প্রতিবছর মৌসুমি বর্ষায় পানির নিচে চলে যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভূমি অবনমনের মধ্যকার ভঙ্গুর ভারসাম্যের ওপর বাংলাদেশের পানির ওপরে টিকে থাকার সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পর্যায়ে নীতি প্রণয়ন ও কৌশলগত অভিযোজনের জন্য এসব পরিবর্তনশীল পরামিতির পরিমাণ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

রাষ্ট্রদূত জানান, প্রশিক্ষণটি ফরাসি দূতাবাসের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এক বছরের বেশি সময়ের একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ICOG-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ফ্রান্সের লা রোশেল বিশ্ববিদ্যালয়ের CNRS-এর গবেষক ও প্রশিক্ষক ড. জো সি গ্রাল। সমাপনী বক্তব্য দেন ফ্রান্স থেকে আগত ICOG-এর ভিজিটিং সাইন্টিস্ট ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানো।

গত ১৭ থেকে ২০ আগস্ট এবং ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর—দুই ধাপে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের ৬০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বৃহস্পতিবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হয়।