ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পুলিশের শানশওকত ছেড়ে জনগণের সেবা করুন: চট্টগ্রামের ডিআইজিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:০৪ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিআইজির পরিদর্শন ঘিরে গান-বাজনা অনুষ্ঠানে হামলা ও নানা অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চরম ভর্ৎসনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। শনিবার দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগস্থ ‘বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়াম’-এ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে ডিআইজি কুদ্দুস চৌধুরীকে দাঁড় করিয়ে তিরস্কার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সরকার ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা লালন করে দেশ পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী কোনো ফটোকলে অতিরিক্ত প্রটেকশন নিচ্ছেন না। সাধারণ জীবনযাপন করছেন। আপনারা পুলিশ কর্মকর্তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক পুলিশের রাজকীয় ভাবসাব বাদ দিয়ে জনগণের নিরাপত্তায় একনিষ্ঠভাবে কাজ করুন। ঔপনিবেশিক পুলিশের মতো কোথাও পরিদর্শনে গেলে গান-বাজনা, রাজকীয় খানাপিনা সহ অতিরিক্ত প্রটোকল পরিহার করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরিস্থিতি অনুযায়ী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করুন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি হাবিবুল গনি

তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডে ১.২ শতাংশ ত্রুটি হয়েছে, দাবি অর্থমন্ত্রীর

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারগণের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও মতবিনিময় করেন