আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ, গুমের বিচার ও জবাবদিহির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ন, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি হাবিবুল গনি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাণীতে তারেক রহমান দাবি করেন, বাংলাদেশের সাবেক সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। তাঁর দাবি, গুমের শিকার ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় আটক রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডে ১.২ শতাংশ ত্রুটি হয়েছে, দাবি অর্থমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।

ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব বিল যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাবে না।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা বা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে থমকে থাকে এবং তাঁরা স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ পান না।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো খোঁজ মেলেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী এই অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।