খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে, ডুবে গেছে ঝুলন্ত সেতু, বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি রাঙামাটি শহরের পর্যটনকেন্দ্রের ঝুলন্ত সেতুর অধিকাংশ পাটাতন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কর্মচারীর মৃত্যু

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়েছে। এতে হ্রদের আশপাশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। বাঘাইছাড়ির পাশাপাশি রাঙামাটি সদরসহ জেলার আরও কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও পানির চাপ বাড়ছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফ ব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি সড়ক ও বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, বিপাকে কৃষক

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, উপজেলার কিছু নিচু এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবারের সদস্য স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় উজান ও ভাটি এলাকার সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিলওয়ের গেটগুলো খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুর ২টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল রেকর্ড করা হয়। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পানি ছাড়ার পরিমাণও সমন্বয় করা হতে পারে।

বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে আরও প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি শহরের ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের বড় অংশ পানির নিচে চলে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সেতুটিতে প্রবেশ ও চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও বাড়লে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিস্থিতি খারাপ হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।