বরখাস্ত নবীরুলের পদোন্নতির তোড়জোড়

MIZANUR RAHMAN
বাংলাবাজার পত্রিকা রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৩ | আপডেট: ৫:১৬ অপরাহ্ন, ১৩ অগাস্ট ২০২৩
(no caption)
(no caption)

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা খেয়েছেন। হয়েছেন বরখাস্তও। তারপরও পদোন্নতি পেতে করছেন দৌড়ঝাঁপ। তিনি হলেন সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত মো. নবীরুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, ২০তম বিসিএস দিয়ে সমবায় অধিদপ্তরে চাকরি শুরু করেন নবীরুল ইসলাম। জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় সমবায় অধিদপ্তরের চাকরি নেন তিনি। এরপর থেকে যত জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছেন, সব জায়গায় তার অনিয়মের ছাপ রয়েছে। এসব কারণে অধিদপ্তর থেকে কয়েকবার সাময়িক বরখাস্ত, অনিয়মের জন্য কারণ দর্শাণোর নোটিশসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের একাধিক নোটিশ, বরখাস্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার কাগজপত্রে এমনটি উল্লেখ রয়েছে। তবু নবীরুলের অনিয়মের লাগাম টানা যায়নি। এসব কর্মকাণ্ডের পরও পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: কবিরাজির বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ: চক্রের ০২ সদস্যকে গ্রেফতার

জানা যায়, নবীরুল ইসলাম সমবায় অধিদপ্তরে চাকরিতে প্রবেশের আগে বিপিএসসিতে চাকরি করতেন। সেখানকার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রথমে জালিয়াতির মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর বাবা মরহুম মো. সহিদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা দেখিয়ে সমবায় অধিদপ্তরে চাকরিতে প্রবেশ করেন। এসব জালিয়াতি ধরা পড়ায় ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলা নং ২৪। মামলার তদন্তে দায়িত্ব পায় দুদক। পরবর্তীতে দুদকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০২ সালের ১৫ জুন চাকরি থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারপর নানান প্রভাব খাটিয়ে রেহায় পেয়ে যান।

২০১১ সালে সিরাজগঞ্জে উপ-নিবন্ধকের দায়িত্ব পালনকালে সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ৬ শতক জমি অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়। গোপনে জমি বিক্রির মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন নবীরুল ও তৎকালীন আরেক কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: টাকা না দিলে ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি,পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের হয়েছে। কিন্তু মামলার বিষয়টি গোপন রেখে পদোন্নতি নেন নবীরুল ইসলাম। এত অনিয়ম, অভিযোগের পরও প্রভাব খাটিয়ে এখন অতিরিক্ত নিবন্ধক হিসেবে পদোন্নতি নিতে পাঁয়তারা করছেন তিনি।

এরপর ২০১২ সালে রাজশাহীর বিভাগীয় দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে বন্ধকী জমির উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে সরকার ও সমবায়ের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বেহাত করার সুযোগ করে দেন নবীরুল। এ ঘটনায় পরের বছর তৎকালীন বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক বাধা দিলে তাকেও লাঞ্চিত করেন নবীরুল ইসলাম।

শুধু তাই নয়; সমিতির নিবন্ধন নিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিতেন এই কর্মকর্তা। হঠাৎ সমিতির অফিস পরিদর্শন করে বিলও নিতেন। বর্তমানে বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে বেনামী দরখাস্ত দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে আসছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবিরুল ইসলাম বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। এই চক্রটি প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা আমাকে হেনস্থা করে আসছে। আমি তাদের ষড়যন্ত্রের শিকার।