বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণা, চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Withlocals-এর ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই ধরনের ভুয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) এবং হৃদয় হাসান (২১)। এদের মধ্যে হৃদয় হাসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং তৌহিদ ভূঁইয়া তদন্তে প্রাপ্ত নতুন অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন: মুসাব্বির হত্যা: এই দুই কিলার কে খুঁজছে পুলিশ
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক বিভিন্ন ভিকটিমের কাছে পাঠিয়ে নিজেদের বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয় দিত। দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো। প্রতারণার মাধ্যমে কমপক্ষে একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি টের পেয়ে ভুক্তভোগী পল্টন থানায় ৪২০/৪০৬/৩৪/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০২, তারিখ ০১/১১/২০২৫)।
সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ তদন্ত করে জানতে পারে, হৃদয় হাসান দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল। ৭ জানুয়ারি ২০২৬ সিআইডির আভিযানিক দল প্রথমে জামালপুর সদর থানাধীন স্টেশন রোড এলাকা থেকে তৌহিদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন প্রতারণা চক্রের মূলহোতা হৃদয় হাসানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাইপলাইনের ওপর ঘর তৈরি করে তেল চুরি, আটক ১
হৃদয়ের ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণে দেখা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়া তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত হলেও সেগুলোর সঙ্গে তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও পাওয়া যায়—তার ফোনে থাকা ১৫টি কিউআর কোড ব্যবহার করে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত। নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করলেও বাস্তবে সে বিদেশি ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথোপকথন স্বীকার করেছে। চক্রটির বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবসমূহের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তারদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ পরিচালনা করছে। অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা, সাইবার জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ দমনে সিআইডি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় সংস্থাটি।





