মহেশপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে মালচিং পদ্ধতির শসা চাষ

Any Akter
জহুরুল ইসলাম জহির, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৯ অপরাহ্ন, ১২ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কম খরচে বেশি ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ পদ্ধতিতে শসার আবাদ দ্রুত বাড়ছে।

উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী এ বছর ১ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের শসা চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় এক লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছেন। তার এ চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তিনি আরও দুই থেকে তিন লাখ টাকার শসা বিক্রির আশা করছেন।

আরও পড়ুন: জিসিসির প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে জাহাঙ্গীরের সহযোগীকে ফেরানোর চেষ্টায় তোলপাড়

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে প্লাস্টিক মালচিং ব্যবহার করে উঁচু বেড তৈরি করা হয়েছে। বেডের দুই পাশে সারি সারি গাছে ঝুলছে সবুজ শসা। গাছগুলোকে সাপোর্ট দিতে দড়ি ও জালের তৈরি মাচা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে।

কৃষক রমজান আলী বলেন, আগে ধান ও অন্যান্য ফসল করতাম। লাভ কম হতো। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করেছি। খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছি।

আরও পড়ুন: নাসিরনগর সদরে ফ্ল্যাট বাসায় দুঃসাহসিক চুরি

স্থানীয় আরও কয়েকজন কৃষক জানান, এ পদ্ধতিতে জমির আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা যায় এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। ফলে উৎপাদন বাড়ে এবং ফসলের মান ভালো থাকে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মহেশপুর উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। এর বেশিরভাগ ক্ষেতেই মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করলে পানি সাশ্রয় হয়, আগাছা কম হয় এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়। কৃষকদের আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি। আশা করছি এ পদ্ধতিতে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রসার ঘটলে কৃষকের উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।