মানিলন্ডারিং মামলায় মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৫ মার্চ) দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ আবেদন করেন। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে বেশি টাকা নিয়ে তারা এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ পান এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ১
দুদকের তথ্যমতে, তারা ৭ হাজার ১২৪ জন কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য খাতে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় গত ১১ মার্চ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া গেজেট, ড. আরিফ চৌধুরী গ্রেপ্তার
দুদক জানিয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পল্টন থানার একটি মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।





