অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে বিকল্প পথ পেয়েছে জ্বালানি বিভাগ
খরচের হিসাবে গোঁজামিল দিলেই আপত্তি তোলেন নিরীক্ষকরা। সরকারের সব খরচই নিরীক্ষা করতে হয়। বছরের পর বছর এসব আপত্তি নিয়ে নিরীক্ষক বা অডিটরদের সঙ্গে বিরোধ ছিল জ্বালানি বিভাগের। অনেক সময় বড় বড় প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে আপত্তি বছরের পর বছর ধরে ঝুলছিল। এক্ষেত্রে দুই পক্ষই নিজেদের সঠিক বলে দাবি করতো। অর্থাৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টতার মনে করতেন, তাদের খরচের হিসাব ঠিক আছে। অন্যদিকে অডিটররা মনে করতেন, তাদের আপত্তি তোলার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় সভার আয়োজন করতে হবে। সরাসরি অডিটরদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। এই প্রক্রিয়াতে সুফল পাওয়াও যাচ্ছে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ।
আরও পড়ুন: বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা
জ্বালানি সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগের এক বৈঠকে বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতি মাসে কয়টি দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় সভা করা হচ্ছে ও কয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছে, তার তথ্য সুনির্দিষ্ট ছকে প্রতি মাসে জ্বালানি বিভাগকে জানাতে হবে।’
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গত এপ্রিল থেকে দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় বেশ কয়েকটি সভা হয়েছে। এগুলোতে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তথ্য উপস্থাপন করা হয়। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এপ্রিল মাসে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির সংখ্যা ১৪টি এবং উত্থাপিত আপত্তির সংখ্যা তিনটি।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটের মধ্যে আবার দুর্ঘটনা, চাপ আরও কমেছে
অডিট অফিসের প্রতিনিধি না পাওয়ায় গত মে মাসে কোনও দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জ্বালানি বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুবুর রহমান (বর্তমানে জনপ্রশাসন সচিব) সভাপতিত্বে গত গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যার ফলে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জ্বালানি সচিব খায়রুজ্জমান মজুমদার বলেন, আগের সভার সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে কিনা, বিষয়টি আগামী সমন্বয় সভায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জ্বালানি বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলা বিপিসি ছাড়াও বিভিন্ন গেল গ্যাস উত্তোলন এবং বিতরণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখন বছরে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি ক্রয়, বিতরণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে অডিট আপত্তি ওঠাটা অস্বাভাবিক নয়। আবার সব আপত্তিই যে বাস্তব সম্মত হবে এমনটিও সঠিক নয়।





