বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তীব্র তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১,০০০ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৯০ দিনের জন্য ১১.৫ শতাংশ সুদে এই তহবিল দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসবের সময় গ্রাহকদের বাড়তি উত্তোলন চাহিদা সামাল দেওয়া যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকদের আমানত সময়মতো পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকের হাতে থাকা আমানত ও ঋণ আদায়ের অর্থ নগদ চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট ছিল না।

আরও পড়ুন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার

ন্যাশনাল ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “ঈদের আগে নগদ উত্তোলনের চাপ বাড়ে। সঠিক ক্যাশ ফ্লো বজায় রাখতে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছিলাম।”

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে স্বর্ণ-রুপার দাম বৃদ্ধি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের তারল্য সহায়তা জরুরি হলেও এর প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, “আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। সংকটে থাকা ব্যাংককে সহায়তা না দিলে তা ধসে পড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে তারল্য জোগাতে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জানান, ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডিপি) নোটের বিপরীতে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ফলে সাময়িকভাবে অর্থ সরবরাহ বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত

চলতি বছরের প্রথমার্ধে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিসুদ ১০ শতাংশে স্থির রেখে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে।

দীর্ঘদিনের শাসন ও তারল্য সংকট

ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই পরিচালনাগত ও তারল্য সংকটে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে প্রভাবশালী সিকদার গ্রুপের আধিপত্য ছিল। চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং স্বাধীন পরিচালক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে চেয়ারম্যান করা হয়। তার সময়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত করার আলোচনা শুরু হলেও পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বাতিল করে।

২০২৪ সালের মে মাসে নতুন পর্ষদ গঠন করে নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের হাতে। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের প্রতিনিধিরা সরে দাঁড়ালে বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে ব্যাংকটি একাধিকবার তারল্য সংকটে পড়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা নিতে হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে নগদ উত্তোলনের চাপ বাড়ায় তারল্য সংকট আরও প্রকট হয়, ফলে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: টিভিএস