আজ থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’ সহজ হবে ডিজিটাল লেনদেন

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:০০ অপরাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করেই ব্যাংক কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)—যেকোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ করতে বাংলা কিউআরকে একটি একীভূত ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শপিংমল, সুপারশপ, ছোট দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আরও কমল স্বর্ণের দাম

নতুন এই ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম খরচে সহজে ব্যবহার করা যায়। যেখানে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের জন্য ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআরের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজেই ক্যাশলেস লেনদেনের আওতায় আসতে পারবেন।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআরকে কার্যকর বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রাহকরা নিজ নিজ ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে কার্ড ক্লোনিং, পিন চুরি কিংবা প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

আরও পড়ুন: মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগেই বাংলা কিউআর চালু করেছিল। তবে আজ থেকে এটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় কোনো দোকানে শুধু একটি নির্দিষ্ট এমএফএসের কিউআর থাকবে—এমন ব্যবস্থা আর থাকবে না। এখন বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা যেকোনো ব্যাংকের গ্রাহক একই বাংলা কিউআর স্ক্যান করে সহজেই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

তিনি জানান, আগে যদি কোনো দোকানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড থাকত, তাহলে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা সেই কিউআর ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারতেন না। বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা দূর হলো।

বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর চালু হলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে। এতে গ্রাহকরা দ্রুত, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্তভাবে লেনদেন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অর্থ গ্রহণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনাও আরও সহজ হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

এদিকে এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বাংলা কিউআর চালুর জন্য তাদের ব্যাংক পুরোপুরি প্রস্তুত। গ্রাহকসেবা এবং মার্চেন্ট পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাংলা কিউআরের মাধ্যমে তাদের ব্যাংকে কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যাংক ও এমএফএসের মধ্যে আন্তঃসংযোগ আরও বাড়বে, ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বিস্তৃত হবে এবং দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।