মিটফোর্ডে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে অপপ্রচারের শিকার হওয়ার দাবি জবি ছাত্রদল নেতা হিমেলের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল দাবি করেছেন, অসুস্থ এক সহযোদ্ধার স্ত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি হয়রানি, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও, ফটোকার্ড ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন।

আরও পড়ুন: শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ায় কাদির মোল্লা স্কুলকে শিক্ষা বোর্ডের শোকজ

হিমেলের ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুর রহমান নিক্সনের স্ত্রী গুরুতর গাইনি-সংক্রান্ত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওয়ার্ডে ভর্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, কয়েক ঘণ্টা ধরে রোগীকে জরুরি বিভাগের মেঝেতে রাখা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের একাধিক অনুরোধের পরও তাকে দ্রুত ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়নি। এতে রোগীর স্বজনরা চরম উদ্বেগ ও অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

আরও পড়ুন: এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা

স্ট্যাটাসে হিমেল জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি গভীর রাতে হাসপাতালে যান এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের একটি অংশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে তা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

মেহেদী হাসান হিমেলের অভিযোগ, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরির উদ্যোগ নেয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত লোকজন জড়ো হওয়ায় উত্তেজনা বাড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কোনো হামলা, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা নেই; বরং সেখানে অসুস্থ রোগীর স্বজনদের উদ্বেগ ও আবেগঘন পরিস্থিতির প্রতিফলন দেখা যায়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে হিমেল আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া ফটোকার্ড ও অসত্য বর্ণনা ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কিছু ব্যক্তি ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধার পরিবারের সংকটময় মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। মানুষের বিপদে পাশে থাকার কারণে যদি সমালোচনা বা অপপ্রচারের মুখেও পড়তে হয়, তবুও সেই দায়িত্ব পালন থেকে সরে আসব না।”

তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।