জহুরুল হক হলে বসছে ৪৮ সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি মনিটর ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও ১৬টি ক্যামেরা যুক্ত করা হলে হলজুড়ে মোট ৪৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবিব ইমরোজের উদ্যোগে কেনা সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আনুষ্ঠানিকভাবে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: চবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে হাটহাজারীতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ
অনুষ্ঠানে হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবিব ইমরোজ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হলকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হলের গঠনগত সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরে সাবেক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ক্যামেরা ও মনিটর কেনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও হলের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে আরও ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি হলের প্রধান ভবনের পাঠাগারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানান।
আরও পড়ুন: আন্দোলন নয়, পড়ার টেবিলে ফিরতে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, হলের আয়ের বিভিন্ন উৎস বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আয় বৃদ্ধি করা গেলে অবকাঠামো ও সেবার মানোন্নয়ন আরও সহজ হবে। তিনি বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে এবং অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ক্যান্টিন পরিচালনাকারীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকলেও হল প্রশাসন এ কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ডাকসু ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ে বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে হলগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের নামে কোনো সহিংসতার সংস্কৃতি নেই। এ পরিবর্তনে হল সংসদ ও হল প্রশাসন যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক বা দমনমূলক আচরণের সংস্কৃতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।
এ সময় তিনি বলেন, হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবিব ইমরোজের উদ্যোগেই সিসিটিভি ক্যামেরা কেনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি চলতি মাসের মধ্যেই জহুরুল হক হলের মূল ভবনের লাইব্রেরিতে এসি স্থাপনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন।





