সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীর সব সৃষ্টি মানুষের কল্যাণে হলেও সেগুলোর যথাযথ যত্ন ও পরিচর্যা করা মানবসমাজের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের জন্য অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর তারিক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সবকিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই নদী-নালা, গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিসহ সব সৃষ্টির যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানবসমাজের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার মতো উদ্যোগ বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি নিরাপদ বিনিয়োগ।
আরও পড়ুন: বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের
সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু জন্ম নিলে একটি গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী তা গবেষণার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। দেশীয় প্রজাতির বনজ, ফলদ, ওষুধি, বাঁশজাতীয়, অর্কিড ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নতুন গাছ রোপণের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি কৃষি, সেচ ও জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল (৩আর) নীতি বাস্তবায়নেও সরকার কাজ করছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে সেখানে বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।





