বগুড়ার শেরপুরে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না সার, কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ

Sadek Ali
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩০ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ—বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।

​সরেজমিনে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর ও সাতারা, মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা ও তালতা, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া, গাড়িদহ ইউনিয়নের মিচকীপাড়া এবং খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কৃষকরা জানান, চলতি চাষাবাদের মৌসুমে চাহিদানুযায়ী সার না পাওয়ায় তারা ফসল ফলানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে শিক্ষকসহ চার খুন: মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যার দাবি, আটক ২

​সাতারা গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, "আমি ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছি। সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাইকারি কিংবা খুচরা—কোথাও পর্যাপ্ত ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না।"

​সাগরপুরের সুদর্শন, জামাইলের মজনু ও বিশালপুরের সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমরা ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। অথচ কোথাও প্রয়োজনমতো সার পাচ্ছি না। ডিলারদের কাছে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রেখে মাত্র ১ বস্তা সার দেওয়া হচ্ছে। এত বড় জমিতে ১ বস্তা সার দিয়ে আমরা কী করব? অথচ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিলেই চাহিদা অনুযায়ী সার মিলে যাচ্ছে।"

আরও পড়ুন: আশুলিয়া-ধামরাইয়ে ডিবির অভিযানে ইয়াবা, হেরোইন ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪

​অন্যান্য কৃষক—ওহিদুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, আবু সাঈদ এবং কাশিয়াবালা গ্রামের বাচ্চু শেখ ও বাবলু বাজারে সারের সংকট ও বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ করে জানান, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। একইভাবে ১,০৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার ১,৬০০ টাকায় এবং প্রতি বস্তা ইউরিয়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

​এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা সার বিক্রেতা জানান, তারা সাধারণত বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। তাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহও পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু অতিরিক্ত দাম নিলেও মেমোতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যই লিখে দেওয়া হচ্ছে।

​তবে ডিলাররা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ডিলার শফিকুল ইসলাম শিরু বলেন, "বাজারে সারের কোনো সংকট নেই। যে সংকট দেখানো হচ্ছে, তা ভুয়া ও ভিত্তিহীন। তবে বিএডিসি কখনো কখনো সরবরাহজনিত কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করে।"

 কুণ্ডু ভান্ডার'-এর স্বত্বাধিকারী তাপস কুণ্ডু বলেন, "বাজারে সারের কোনো সংকট নেই এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। অনেক কৃষক আগাম সার কেনার চেষ্টা করায় সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে গিয়ে সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।" তিনি জানান, তার বরাদ্দকৃত সার গত ১২ আগস্ট উত্তোলন করা হয়েছে এবং বর্তমানে টিএসপি সারের কোনো সংকট নেই। তবে ডিএপি সারের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

​এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, "উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুত রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা খুচরা দোকানদারদের কাছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সার বিক্রি না করেন। এমনকি ছুটির দিনেও আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

​শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, "সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক টাকাও নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ডিলার বা বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"