চুয়েটে ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, অসুস্থ দুজন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:২৯ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা অন্তত ১০ থেকে ১১ জন আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন।

আরও পড়ুন: চুয়েটে না ফেরার শর্তে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন ভিসি

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর থেকে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা আটকা পড়েন। ভবনের ভেতরে উপাচার্যের পাশাপাশি চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তাঁর সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত ৫ শিক্ষার্থী, গাড়ি ভাঙচুর

চিকিৎসক আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা দুজন সাবেক শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন বলে জানান। দীর্ঘ সময় ভবনের ভেতরে আটকে থাকায় অন্যরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন বলে জানান উপাচার্য।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলছিল।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। আন্দোলনের কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।