ভোটের ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের স্রোত মহাসড়কের যানজট

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৩ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। হাজারো মানুষ একসঙ্গে ঘরমুখী হওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা ত্যাগের প্রতিটি পয়েন্টে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির জটলায় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। একজন পোশাকশ্রমিক জানান, ভোট দেওয়ার জন্য সকালে রওনা হলেও চন্দ্রা এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছেন। একই ভোগান্তির কথা জানান রাজশাহীগামী গৃহকর্মী হাসিনা বেগম। শিশু সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি

মহাসড়কে যানজটের কারণ হিসেবে পুলিশের জনবল সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, "নির্বাচনের ডিউটিতে পুলিশের অধিকাংশ সদস্য ব্যস্ত থাকায় মহাসড়কে পর্যাপ্ত জনবল নেই। স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে আমরা যানজট নিরসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

এদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে ট্রাকে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে বাস চালক ও সুপারভাইজাররা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "রাতে ঢাকা থেকে মির্জাপুর আসতে সময় লাগছে ১১ ঘণ্টা। রাস্তায় কোনো ট্রাফিক নেই, ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৪ গুণ। কষ্টে আছে বাংলার সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকরা।

স্থানীয়রা জানান, ধানের আবাদ করতে আসা কৃষি শ্রমিক এবং গোড়াই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা একসঙ্গে বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় মহাসড়কে এই নজিরবিহীন চাপের সৃষ্টি হয়েছে।