গণভোট কী, কেন ও কীভাবে দেবেন ভোট?

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৩০ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘গণভোট ২০২৬ এবং সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। কোথাও আবার লেখা হচ্ছে—‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে’। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকলেও গণভোট কী, কেন ও কীভাবে দিতে হবে—এ বিষয়ে এখনো অনেক ভোটারের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই।

নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে চলুন জেনে নেওয়া যাক গণভোট সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সব তথ্য।

আরও পড়ুন: ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি

গণভোট কী?

গণভোটও এক ধরনের ভোট বা নির্বাচন। তবে সাধারণ নির্বাচনের মতো এখানে কোনো প্রার্থী থাকে না। গণভোটে ভোটাররা নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবের পক্ষে অথবা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানান।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

গণভোট কেন প্রয়োজন?

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত যেসব কারণে গণভোটের প্রয়োজন হয়— সংবিধান সংশোধন: সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে জনগণের অনুমোদন নিতে

জাতীয় নীতিনির্ধারণ: গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জাতীয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে

গণতান্ত্রিক অধিকার: জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে

গণভোট কীভাবে হয়?

গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া সাধারণ নির্বাচনের মতোই। প্রথমে সরকার বা সংসদ গণভোটের বিষয় নির্ধারণ করে। এরপর আইন বা বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। ব্যালট পেপারে এমন প্রশ্ন রাখা হয়, যার উত্তর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দিয়ে দেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ভোটগ্রহণ পরিচালনা করে। অধিকাংশ ভোট যে পক্ষে পড়ে, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়।

এবারে যেভাবে গণভোট দেবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ অনুমোদনের জন্য জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোট দেওয়ার নিয়ম হলো—

১. ভোটকেন্দ্রে গেলে আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—একটি সাদা, একটি গোলাপি।

২. সাদা ব্যালট সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থীদের জন্য।

৩. গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য।

4. দুটি ব্যালটে আলাদা আলাদা সিল দিয়ে একই ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।

৫. এমপি প্রার্থীর ব্যালটে প্রতীকে সিল দিতে হবে।

৬. গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ চিহ্নিত ঘরে সিল অথবা (√) চিহ্ন দিতে হবে।

ব্যালট পেপারে কী থাকবে?

গণভোটের ব্যালট পেপারে নিচের প্রশ্নটি উল্লেখ থাকবে— আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সাংবিধানিক সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন? (হ্যাঁ/না)

এর সঙ্গে থাকবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব—

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রক্রিয়া

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন

সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, স্থানীয় সরকার সংস্কার

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও মেয়াদ সংক্রান্ত সংস্কারসহ মোট ৩০টি বিষয়ের বাস্তবায়ন

ভোটারদের সম্মতির ভিত্তিতেই এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নির্ধারিত হবে।