হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন আজ

Any Akter
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ন, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৬:২৭ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আজ ১৩ নভেম্বর, বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী, শব্দের জাদুকর এবং কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৬৩ বছরের বর্ণিল জীবন শেষে ২০১২ সালে তিনি পাড়ি জমান না-ফেরার দেশে। তবুও তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও কোটি পাঠকের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করছে এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো।

‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে ১৯৭২ সালে হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হন। প্রথম গ্রন্থেই তিনি অর্জন করেন সাহিত্যপ্রেমীদের গভীর ভালোবাসা ও স্থায়ী আসন। পরবর্তী জীবনে তিন শতাধিক বই রচনা করে তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা করেন এক নতুন ধারা— সহজ, সাবলীল অথচ গভীর ভাবনাসমৃদ্ধ কথাসাহিত্য।

আরও পড়ুন: গোল্ডেন গ্লোবের মঞ্চে রের্কড করলেন কিশোর অভিনেতা

তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র হিমু, মিসির আলী, ও বাকের ভাই বাঙালি পাঠক ও দর্শকদের কাছে আজও তেমনি জীবন্ত।

শুধু সাহিত্য নয়— টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৯৪ সালে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তি পায়, যা আটটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতে। পরবর্তীতে তিনি নির্মাণ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘আমার আছে জল’ ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’— প্রতিটি চলচ্চিত্রই দর্শক ও সমালোচক মহলে প্রশংসিত হয়।

আরও পড়ুন: ভাঙল তাহসান-রোজার সংসার, যা বললেন তাহসান

সাহিত্য ও শিল্পে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।

হুমায়ূন আহমেদ দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ-এর সঙ্গে তাঁর চার সন্তান— শীলা আহমেদ, নোভা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ ও নুহাশ হুমায়ূন। ২০০৫ সালে তিনি বিয়ে করেন মেহের আফরোজ শাওন-কে; এ সংসারে তাঁর দুই পুত্র— নিশাত হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন।

যে মানুষটি সহজ ভাষায় গভীর অনুভূতির গল্প লিখে লক্ষ পাঠকের মন ছুঁয়েছিলেন, তিনি আজও বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টি ও চরিত্রগুলোর মধ্যে। হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন— তিনি এক যুগ, এক আবেগ, এক ইতিহাস।