পেশাগত নিবন্ধনের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:০৪ পূর্বাহ্ন, ০৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রের অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী প্রায় ২০ হাজার পেশাজীবী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পেশাগত নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, সরকার অনুমোদিত শিক্ষা, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সনদ থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো পেশাগত স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।

রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,০৩১

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিষয়টি শুধু একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর অধিকার বঞ্চনার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে গড়ে ওঠা দক্ষ মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার, নিরাপদ দন্তসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

তাদের দাবি, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত ২৩টি সরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং ৫০টিরও বেশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) কোর্স সম্পন্নকারীদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ সনদ প্রদান করে। প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীরা এই পেশায় যুক্ত হলেও বিএমডিসির নিবন্ধন না থাকায় তারা পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,১০৭

সংগঠনের নেতারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিএমডিসির নিবন্ধন ও সীমিত পরিসরে প্র্যাকটিসের সুযোগ পেলেও একই ধরনের সরকারি অনুমোদিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া ১৯৮০ সালের বিএমডিসি আইনের ১৫(৩) ধারার আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও একটি জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল, যা এখনও নবায়ন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের Scope of Practice নির্ধারণ করেছে এবং সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ সুযোগ প্রদানে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংগঠনের মহাসচিব বলেন, ১৯৮৩ সালের ১ জুন বিএমডিসির কার্যনির্বাহী কমিটি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত নিবন্ধনের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও চার দশকের বেশি সময়েও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনও নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাথমিক দন্তসেবা থেকে বঞ্চিত। এ সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তিরা দন্তসেবা দিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, সরকার অনুমোদিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা আইনগত স্বীকৃতির অভাবে তাদের দক্ষতা জনগণের সেবায় পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না।

সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫ ও পঞ্চম তফসিলে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা ডিগ্রিকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ ধারা অনুযায়ী গেজেট জারি এবং বিএমডিসির মাধ্যমে পেশাগত নিবন্ধন কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত কাজের পরিধি অনুযায়ী সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ১১ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের দাবিতে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা।

সংগঠনের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা দক্ষ ডেন্টাল জনশক্তির ন্যায্য পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করে দীর্ঘদিনের এ প্রশাসনিক জটিলতার দ্রুত, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধান করা হোক।