ভেনেজুয়েলা কি পরিমান তেল মজুদ যার জন্য ট্রাম্প অস্থির
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক এক নজিরবিহীন অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করার ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দেশটির বিপুল তেল সম্পদ। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—মাদুরোর অপসারণ কি মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যেই?
দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো অভিযোগ করে আসছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখলের পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া তেল শিল্প পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার কাছে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এত বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির বাস্তব তেল উৎপাদন বর্তমানে অত্যন্ত কম।
আরও পড়ুন: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
বর্তমানে ভেনেজুয়েলা দৈনিক মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের মাত্র ০.৮ শতাংশ। প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে মাদুরো সরকার এবং তার আগের প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের নীতির কারণে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পুরোপুরি ফিরে এলেও ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরতে বছরের পর বছর সময় ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA) জানিয়েছে, গত ৫০ বছরে দেশটির তেল পাইপলাইন আধুনিকায়ন করা হয়নি। সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরতে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেল তুলনামূলকভাবে ভারী ও সালফারযুক্ত, ফলে এর উত্তোলন ও পরিশোধনে বিশেষ প্রযুক্তি ও দক্ষতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সেই সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সেখানে কার্যক্রম চালাতে পারেনি। এই ভারী তেল ডিজেল, অ্যাসফল্ট ও শিল্প জ্বালানি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে চলমান ডিজেল সংকটের অন্যতম কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশটির তেল শিল্প পুনর্গঠনের সুযোগ পেলে বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





