ট্রাম্পকে খুশি করতে দেশে সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা: খামেনি
ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা ও ভাঙচুরের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে খামেনি বলেন, দেশের ভেতরে যারা দাঙ্গা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করা। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব কার্যক্রম ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের অংশ।
আরও পড়ুন: ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি
বিবিসির শনিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন—ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ও ‘ধ্বংসাত্মক উপাদানগুলোকে’ কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, হুমকি, উসকানি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে।
আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড দখল করার ঘোষণা ট্রাম্পের
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে ‘বড় বিপদে’ থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে, যদিও সামরিক হস্তক্ষেপের কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি।
অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে টানা ১৩ দিনে গড়িয়েছে। এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অবসান ও রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ৪৮ থেকে ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন দাবি করেছে, শুধু রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছে।





