‘ইরানে বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দায়ী’

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩০ পূর্বাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩১ পূর্বাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানি।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারী হিসেবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

আরও পড়ুন: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার

তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উসকানিতেই বর্তমানে ইরানে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, খুব শিগগিরই তাদের জন্য মার্কিন সহায়তা আসছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ১ হাজার ৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উৎসাহিত করে তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান, প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন, হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন, কারণ তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে সরাসরি হস্তক্ষেপ ও উসকানি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের তালিকা করলে এক নম্বরে থাকবেন ট্রাম্প এবং দুই নম্বরে থাকবেন নেতানিয়াহু।

লারিজানির মতে, বিদেশি শক্তির এই নির্লজ্জ হস্তক্ষেপই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর আগেও ২ জানুয়ারি ট্রাম্প যখন বলেছিলেন, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে আসবে, তখন লারিজানি সতর্ক করেছিলেন যে এই ধরনের হস্তক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বর্তমানে ইরান সরকার দাবি করছে, তারা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় সক্ষম এবং বিদেশি কোনো সহায়তা বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে ট্রাম্পের ধারাবাহিক সমর্থন ও ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার অভিযোগ তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির এই কড়া বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ইরান এই বিক্ষোভকে আর কেবল অভ্যন্তরীণ ইস্যু হিসেবে দেখছে না, বরং একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই বিবেচনা করছে।

 সূত্র: আল জাজিরা