ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। উপসাগরীয় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

মঙ্গলবার রাজধানী দোহায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনাবৃদ্ধি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং আশপাশের অঞ্চলগুলোকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তিনি বলেন, এই কারণেই কাতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পরিস্থিতি শান্ত রাখার।

আরও পড়ুন: ফ্রান্স ও কানাডা নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ

কাতার স্মরণ করিয়ে দেয়, গত বছরের জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় বোমাবর্ষণ চালায়। জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

এই হামলাই ছিল কাতারের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম সামরিক আক্রমণ। তবে ওই সংকটকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাতার। সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে।

আরও পড়ুন: মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র

এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ছে এবং প্রায় পুরো দেশেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের কারণে ইরানের মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে।

মুদ্রার এই ভয়াবহ অবমূল্যায়নের ফলে ইরানে তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে দেশটির স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। এসব সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের জনগণের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ মঙ্গলবার তিনি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই ইরানি জনগণের জন্য মার্কিন সহায়তা আসছে।

এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে ইরানের সেনাবাহিনী।