দেশের চার বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৮ পূর্বাহ্ন, ০৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:০২ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আষাঢ়ের ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে দেশের ১৮ জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব জেলা হলো—রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট। সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুতুবদিয়ায় ১৪৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৩৮ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১১৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮৩ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ৬৩ মিলিমিটার এবং খেপুপাড়ায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী চার দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় আরও ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন নদ-নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বন্যা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।