ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ
টানা তিন দিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে এ সড়কে সরাসরি সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল বরিবার থেকে শুরু হওয়া একটানা ভারী বৃষ্টিতে মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে পানি ডিঙিয়ে চলাচল করছেন বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটায় খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাঁটু থেকে কোমরপানিতে সড়ক ডুবে গেছে। সেচের নালার সুইচগেইট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে পারেনি। এ কারণে সড়ক ডুবে গেছে পানিতে। সড়কে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বন্যার পানি ডিঙিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
খাগড়াছড়িতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার রাত থেকে জেলা সদর, মাটিরাঙা, পানছড়ি ও রামগড়সহ বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টিপাত হলেও এখন পর্যন্ত কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে চেঙ্গী নদীর পানি বেড়ে জেলা সদরে নীচের বাজার ও মুসলিম পাড়া,গোলাবাড়ি,গঞ্জপাড়া,মহিলা কলেজ রোড, নিচু এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া মাইনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় দীঘিনালার নিচু এলাকা প্লাবিত হওযার শঙ্কা তৈরি হয়েছে
আরও পড়ুন: বিজিবি’র অভিযানে জুন মাসে ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ
একটানা বৃষ্টি হওয়ায় জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল, ছড়ার পানি দ্রুত বাড়ছে। আজ দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা বলেন, আজ বেলা ১টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত জেলার কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কাজ শুরু করেছেন। জেলা সদরের শালবন, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ ও কুমিল্লা টিলা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
জেলা শহরের কলাবাগান, নেন্সীবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠারো পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসন এসব এলাকার বাসিন্দাদের পাহাড়ের পাদদেশ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। শুষ্ক খাবার এবং পর্যাপ্ত সুপেয় পানি রাখা হয়েছে। তা ছাড়া বন্যা হওয়ার আশঙ্কা এমন এলাকাগুলোতে আশপাশের স্কুলগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে তৈরি রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।





