আকাশছোঁয়া দামে খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা

ইলিশের মৌসুমেও ফাঁকা দেশের অন্যতম বৃহৎ চাঁদপুরের মাছঘাট

Sanchoy Biswas
শ্যামল সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫১ অপরাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মৌসুম শুরু হয়েছে, কিন্তু চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে নেই সেই চিরচেনা রুপালি ইলিশের জৌলুস। দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশ অবতরণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ ঘাটে এখন মাছের চেয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার হতাশাই বেশি চোখে পড়ে। সরবরাহ কম থাকায় আড়তগুলো প্রায় ফাঁকা, আর যেটুকু ইলিশ আসছে, তার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বড়স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, বছরের এই সময়ে যেখানে মাছবোঝাই ট্রলার আর ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম থাকার কথা, সেখানে বিরাজ করছে নিরবতা। অধিকাংশ আড়তের সামনে মাছের ঝুড়ি খালি পড়ে আছে। শ্রমিকরা কাজের অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন। হাতে গোনা কয়েকটি আড়তে অল্প কিছু ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ৭ মণ ইলিশ ঘাটে আসছে। এর বেশির ভাগই পদ্মা-মেঘনার স্থানীয় নদী থেকে ধরা। সাগর থেকেও জেলেরা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ নিয়ে ফিরতে পারছেন না।

সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা, আর এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

আরও পড়ুন: জুরাইনে জুমা শেষে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের সংঘর্ষ, তদন্ত ও কমিটি বাতিলের দাবি

মতলব উত্তর থেকে মাছ কিনতে আসা আরিফ বলেন, গত বছর একই সময়ে ২০ কেজি ইলিশ কিনেছিলাম। এবার দাম এত বেশি যে মাত্র এক কেজি কিনে ফিরতে হচ্ছে।

ক্রেতা হাসান বলেন, চাঁদপুরের ইলিশ কিনতেই এখানে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে আর কেনার সাহস হয়নি।

আরেক ক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের মৌসুমে এমন বাজার আগে দেখিনি। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই দামে মাছ কেনা সম্ভব নয়।

ইলিশ ব্যবসায়ী সম্রাট বেপারী বলেন, ঘাটে মাছ না থাকায় দাম বাড়তি। সরবরাহ বাড়লেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

আড়তদার নূরে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ সময় ইলিশ অনেক কম। গত বছর যে মাছ ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার সেটি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, এখনো নদী ও সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ উঠছে না। জেলেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাছ ধরেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, এবার এখনো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া মেঘনার মোহনায় চর জেগে ওঠা, নদীর পানি দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং উজানে বাঁধ ও ব্যারাজ নির্মাণের কারণে ইলিশের চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি বাড়বে এবং তখন বাজারেও সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।