গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ : গ্রাহকদের সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের বিদ্যমান লোডশেডিং নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ গ্রাহকদের সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সম্মানিত গ্রাহকদের অবগতির জন্য নিম্নোক্ত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত তিনটি ধাপে পরিচালিত হয়—বিদ্যুৎ উৎপাদন (Generation), সঞ্চালন (Transmission) এবং বিতরণ (Distribution)। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কেবলমাত্র বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ উৎপাদন বা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ওপর গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কোনো কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ নেই।
আরও পড়ুন: ফেনী চেম্বার নির্বাচনে বিজয়ী সাব্বির-জুয়েলকে সংবর্ধনা
জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (PGCB)-এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (NLDC) দেশের বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ প্রতি ঘণ্টায় নির্ধারণ করে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সেই বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ গ্রহণ করে বিতরণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য।
অতএব, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি বা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে গেলে বরাদ্দ অনুযায়ী সাময়িক লোডশেডিং কার্যকর করা ছাড়া এ কার্যালয়ের কোনো বিকল্প থাকে না। এ লোডশেডিং কোনো নির্দিষ্ট এলাকা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্যমূলক নয়; বরং জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ন্যায্যতা নিশ্চিত করে পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: যত্রতত্র ময়লা না ফেলার প্রতিজ্ঞা সবার হওয়া উচিত: সিডিএ চেয়ারম্যান
কাপাসিয়া উপজেলায় ০৪টি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে ০৫টি উপকেন্দ্র দ্বারা কাপাসিয়াবাসীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। যার সর্বোচ্চ চাহিদা ৪৪ মেগাওয়াট। গত ২৫/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সর্বোচ্চ লোডশেড করা হয় ২০ মেগাওয়াট, যা শতকরা ৪৫.৪৫ শতাংশ (সময়-১৪:০০)। তবে ২৯/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হতে লোডশেড সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। ০১/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে লোডশেডের পরিমাণ ছিল ৪.০০ মেগাওয়াট, যার শতকরা হার ৯.০৯ শতাংশ (সময়-১৪:০০)। যেহেতু প্রতি ঘণ্টায় বরাদ্দ একই থাকে বা পরিবর্তন হয়, সেহেতু প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডও একই থাকে বা পরিবর্তন হয়ে থাকে।
সম্প্রতি কাপাসিয়া উপজেলায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এ বিষয়ে সম্মানিত সকলকে বিনীতভাবে অবহিত করা যাচ্ছে যে, লোডশেডিং সম্পূর্ণভাবে জাতীয় গ্রিড হতে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এককভাবে লোডশেডিং প্রত্যাহার বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার ক্ষমতা রাখে না।
তবে জাতীয় গ্রিড হতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই কাপাসিয়াসহ গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন সকল এলাকায় তা দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হয়। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সম্মানিত গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে এবং সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণ করার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, কাপাসিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় মূলত রাজেন্দ্রপুর ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র হতে। কাপাসিয়ায় স্থাপিত উপকেন্দ্রসমূহের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা কখনোই অন্য কোথাও সরবরাহ করা হয় না।





