ঢাবিতে প্রথম সমন্বিত বৃক্ষ শুমারির ফল প্রকাশ

Sadek Ali
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালিত সমন্বিত বৃক্ষ শুমারি-২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শুমারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৬২টি গোত্রের ২৭৭টি প্রজাতির মোট ১৭ হাজার ১৬১টি বৃক্ষ শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, কার্বন মজুদ, জীবভর, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অবস্থানভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন: এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত প্রায় ২৫ হাজার পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই বৃক্ষ শুমারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসম্পদ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সবুজ ও টেকসই ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন শুমারির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকার এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির।

আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু, পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি

শুমারির তথ্য অনুযায়ী, প্রজাতির ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ শতাংশ বৃক্ষ দেশীয় এবং ৪২ শতাংশ বিদেশি। তবে মোট বৃক্ষ সংখ্যার হিসেবে দেশীয় বৃক্ষ ৫৪ শতাংশ এবং বিদেশি বৃক্ষ ৪৬ শতাংশ। সর্বাধিক সংখ্যক ১৫টি প্রজাতির মধ্যে পাঁচটি বিদেশি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে মেহগনি, দেবদারু, ম্যাকারথুরি পাম, রেইনট্রি ও সেগুন উল্লেখযোগ্য।

এতে আরও দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বৃক্ষসমূহের মোট ভূ-উপরিভাগীয় জীবভর ৯ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং ভূ-নিম্নীয় জীবভর ২ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এসব বৃক্ষের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কার্বন মজুদ রয়েছে। জীবভরের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান বিদেশি প্রজাতির বৃক্ষের, আর দেশীয় প্রজাতির অবদান ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

উপযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসম্পদের মধ্যে ফলদ বৃক্ষ ২৫ শতাংশ, প্রাণিকূল সহায়ক বৃক্ষ ২২ শতাংশ, ঔষধি বৃক্ষ ২১ শতাংশ, কাঠ উৎপাদনকারী বৃক্ষ ২০ শতাংশ এবং শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ ১২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য মূল্যায়নে ১ হাজার ৮১১টি বৃক্ষকে বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে এবং ২ হাজার ২১৩টি বৃক্ষকে সম্ভাব্য 'ট্রি হ্যাজার্ড' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বৃক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫ সালে পরিচালিত এই শুমারিতে ক্যাম্পাসকে পাঁচটি প্রধান জরিপ ইউনিট ও ৪৫টির বেশি উপ-ইউনিটে ভাগ করে প্রতিটি বৃক্ষের তথ্য Direct Measurement Method অনুসরণ করে সংগ্রহ করা হয়। পরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, জীবভর ও কার্বন মজুদ নিরূপণ করা হয়। পাশাপাশি Google My Maps ও ArcGIS ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল বৃক্ষ ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে।