ইরানের বিক্ষোভে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হাত রয়েছে: খামেনি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক এই সরকারবিরোধী আন্দোলন সাধারণ কোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নয়; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।

আরও পড়ুন: ফুটবল মাঠেই ১১ জনকে গুলি করে হত্যা

খামেনির দাবি, এই ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে ছিলেন, যা আগের ঘটনাগুলোর তুলনায় এটিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি শক্তিগুলো ইরানজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের জন্য দায়ী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুলোই এই বিক্ষোভে ইন্ধন জুগিয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে তৎপরতা চালিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানবিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।

তবে একই সঙ্গে খামেনি সতর্ক করে বলেন, ইরান সীমান্তের বাইরে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত ছড়িয়ে দিতে চায় না। কিন্তু যারা দেশীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, “আমরা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে আনা ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি ও সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দায়ী মনে করি। এটি একটি মার্কিন ষড়যন্ত্র।”

ভাষণের শেষদিকে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে আবারও তাদের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের অধীনে নিয়ে যাওয়া—যা ইরানি জাতি কখনোই মেনে নেবে না।