মেয়াদ শেষের বাধ্যবাধকতা; সময়সূচি নির্ধারণ করবে সরকার

চলতি বছরে ৪,৬৫৩ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৪:২০ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একযোগে বড় ধরনের নির্বাচনি কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ৪ হাজার ৬৫৩টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হয়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে—সেই সময়সূচি নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কমিশন মূলত সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে নির্বাচন আয়োজনের প্রশাসনিক ও কারিগরি দায়িত্ব পালন করে থাকে।

আরও পড়ুন: প্রবাসীদের এনআইডি কার্যক্রমে অগ্রগতি: প্রস্তুত ১৮,৮৬৫ পরিচয়পত্র

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছর ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হবে। আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বর্তমানে ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ১২টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ও আইনগত বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সহযোগিতায় ইসিকে ধন্যবাদ ইইউ মিশনের

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করে, আর সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে কমিশন। ফলে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণে সরকারের অবস্থানই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কোনো অবসর নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাইরে সারা বছর ধরেই বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।”

তিনি জানান, ঈদের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুত, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশন ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নেবে।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে কমিশন। সংসদে এ সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো নির্ধারণের পর নির্বাচন কমিশন সেই অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করবে।

তিনি বলেন, “আইন যেভাবে নির্দেশনা দেবে, নির্বাচন কমিশন সেই অনুযায়ী স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।”