ট্রাম্পকে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি, ‘আঙুল ট্রিগারে আছে’

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৬ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতির খবরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বাহিনীর ‘আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে’। যেকোনো ধরনের উসকানি বা সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বড় নৌবহর পারস্য উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এএফপি এক প্রতিবেদনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাই না পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাক। তবে আমরা ইরানের ওপর কড়া নজর রাখছি এবং প্রয়োজন হলে বড় নৌবহর মোতায়েন করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে

ট্রাম্প জানান, তেহরান এখনো আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যায়। সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন স্বার্থ বা নেতৃত্বের ওপর আঘাত এলে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হবে’।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও অস্থিরতা রয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া টানা দুই সপ্তাহের গণবিক্ষোভ দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবু ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘১২ দিনের যুদ্ধে’ পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বাইরের শক্তিগুলো ইরানে অস্থিতিশীলতা উসকে দিচ্ছে। একই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জেনারেল পাকপুর সতর্ক করেন, কোনো ভুল হিসাব করলে প্রতিপক্ষকে ‘বেদনাদায়ক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ স্তিমিত হওয়া এবং উভয় পক্ষের কূটনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিতের কারণে তাৎক্ষণিক পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। তবে ট্রাম্পের কড়া বক্তব্য ও পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ ও অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী গার্ডের ‘ট্রিগারে আঙুল’ রাখার ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। আপাতত উভয় পক্ষই একে অপরের গতিবিধির ওপর নজর রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।