অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে না: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ না করে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইসলামপন্থী এই দলটির ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই। তবে নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় বা কারচুপি ঘটে, তখন ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোটব্যাংক খুবই সীমিত। দলটির ভোটের হার সাধারণত পাঁচ থেকে সাত শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাও আবার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সহায়তায়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই ভোটে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, বর্তমানে যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তারা নির্বাচিত নন। তারা নিজেরাই এই অবস্থানে এসেছেন। এই প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার সবসময় চেয়েছে বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত ও অভিবাসন প্রসঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতে অবস্থান করছেন, যা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত চায় বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক এবং একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক।
এদিকে বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ক্রীড়াজগতের জন্য ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে ক্রিকেটের স্বার্থ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশে তার অনেক বন্ধু আছেন, যাদের অনেকে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত। তাদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ক্রীড়ার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করে নেওয়া হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।





