তারেক রহমানের মহাসমাবেশ, প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ড, তিন স্তরের নিরাপত্তা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:২১ পূর্বাহ্ন, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মহাসমাবেশ। দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা।

নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে ব্যানার–ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

মহাসমাবেশকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজার বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের এই মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে বসানো হচ্ছে পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার।

সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক এবং ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহার করা হবে প্রায় ২০০টি মাইক। শনিবার মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, জমি সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি ছিটানো হয়।

আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস

মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে আনা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকাকে তিনটি নিরাপত্তা স্তরে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করবেন। ইয়েলো জোনে থাকবেন সাংবাদিক ও নারী অংশগ্রহণকারীরা। পুরো মাঠ থাকবে গ্রিন জোনে।

পোশাকধারী ও সাদাপোশাক পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে সিএমপির ডগ স্কোয়াড পাঁচটি প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো এলাকা তল্লাশি চালায়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান শনিবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে অবস্থান করেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় মহাসমাবেশে বক্তব্য দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মহাসমাবেশের প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারক করতে শনিবার দুপুরে পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশ আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান এবং নগরবাসীকে সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সমাবেশ শুধু দলীয় নয়; এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সমাবেশ। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের নতুন আশার নাম তারেক রহমান। এই মহাসমাবেশে চট্টগ্রামের মানুষ সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে।

মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীতে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি মহানগর এলাকায় অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বস্তু প্রদর্শনেও নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।