নরসিংদির শিবপুরে বয়োবৃদ্ধ কৃষকের জমি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় জিডি

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩১ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদির শিবপুর উপজেলায় এক বয়োবৃদ্ধ ও নিরক্ষর কৃষকের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় দুই ব্যক্তি মো. ফারুক ও মো. রমজান আলীর নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (পিতা: মৃত মো. নিজাম উদ্দিন) শিবপুর উপজেলার ধনাইয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক। অভিযোগে তিনি জানান, বয়সের ভার ও নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: সরিষার মাঠে মৌমাছির উৎসব, মধু চাষিদের কর্মব্যস্ততা

মো. রফিকুল ইসলামের দাবি, জমি খারিজ ও নামজারির জন্য ভূমি অফিসে গেলে তার সঙ্গে পরিচয় হয় মো. রমজান আলী (২৮) ও মো. ফারুক (৩২)-এর। তারা নামজারি ও খারিজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন এবং মূল দলিল, পর্চাসহ জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অভিযুক্তরা তাকে জানায় খারিজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাগজে স্বাক্ষর প্রয়োজন। নিরক্ষর হওয়ায় সরল বিশ্বাসে তিনি শিবপুর বাজার এলাকার একটি ব্যাংকের নিচে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে লোকমুখে জানতে পারেন, ওই কাগজগুলো বায়না দলিল ছিল, যেখানে দেখানো হয়েছে তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে জমির বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

এরপর অভিযুক্তরা ওই টাকা ফেরত দাবি করে তাকে চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা তার বাড়ির গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে গেছে, জমির কাগজপত্র আটকে রেখেছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তার স্ত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম মো. রমজান আলী, মো. ফারুক ও কাজল নামে আরও একজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ৯৯২।

স্থানীয় গ্রাম্য পঞ্চায়েতের সঙ্গে জড়িত মো. মুতি মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ফারুক ও রমজান আলী এলাকায় ভূমির দালাল হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি।

এলাকার সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত ফারুক বিভিন্ন সময় নিরক্ষর মানুষের জমির দলিল নিয়ে দালালি করেন বলে তারা শুনেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ফারুকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপর অভিযুক্ত রমজান আলীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।