নানা নাটকীয়তার পর সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন কামরুল

Sanchoy Biswas
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:১১ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। এরপর থেকেই একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল হাল ছাড়েন নি। চালিয়ে গেছেন, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে উঠান বৈঠক ও প্রচার প্রচারণা।

পরে দেখা গেছে, আনিসুল হকের মনোনয়নের সাথে কামরুজ্জামান কামরুলকেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে চিঠি দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। বিষয়টি নিয়ে প্রায় মাসখানেক ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছিল এক ধরনের প্রতিযোগিতা। একে অপরের পছন্দের নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারও দেখা গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: সরিষার মাঠে মৌমাছির উৎসব, মধু চাষিদের কর্মব্যস্ততা

এরই মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুলই বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী।

সোমবার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার কাছে বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরিত চিঠি হস্তান্তর করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিধি ও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুনামগঞ্জ-১ আসনের জন্য কামরুজ্জামান কামরুলকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনিসুল হক সমর্থিত অনেক নেতাকর্মীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। তারা ফেসবুক লাইভে এসে কান্না প্রকাশ করেন।

তবে চূড়ান্ত মনোনীত বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল এ প্রতিবেদককে বলেন, “আনিস ভাই আমার বড়ভাই, আমরা একই এলাকার বাসিন্দা। আমরা দুজন ছাড়াও এই আসনে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। আমি আগেও বলেছিলাম, দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। আমি আশা করি সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করব এবং বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে, বাংলাদেশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করব।”

এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রথম দফায় মনোনয়ন ঘোষণার সময় সুনামগঞ্জ-১ আসনে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তাকে দলীয় মনোনয়নের চিঠিও প্রদান করা হয়েছিল। এরপর আনিসুল হক নির্বাচনী এলাকায় জোরেশোরে প্রচারণাও করেছিলেন।

মনোনয়ন দাখিলের শেষ মুহূর্তে (২৭ ডিসেম্বর) এই আসনে বিএনপির মহাসচিব স্বাক্ষরিত আরও একটি মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়, সুনামগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুলের জন্য।

ওই সময় বিএনপির সিলেট বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, সুনামগঞ্জ-১ আসনে দুজনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। পরে একজন প্রত্যাহার করবেন।