জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

শিক্ষিত প্রজন্মই রাষ্ট্র সংস্কারের মূল শক্তি: ড. এম এ কাইয়ুম

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:২২ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাড্ডা ডিআইটি খেলার মাঠে আব্দুল হাই-রাবেয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও স্মারক সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, তারা শুধু নিজেদের নয়-পুরো জাতির গর্ব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে নিয়ে গিয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগ।মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় শিক্ষাবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে অবৈতনিক শিক্ষা, মেয়েদের শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ বিগত সময়ের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলা হয়েছে। ছাত্রলীগ নামে শিক্ষাঙ্গনে একধরনের লাঠিয়ান বাহিনী গড়ে তুলেছিলো। ২৪ এর এই তরুণ ছাত্রসমাজের একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছি।

আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস

বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড.এম এ কাইয়ুম আরও বলেন,আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে শিক্ষাঙ্গন হবে রাজনীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত। শিক্ষার্থীরা ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাসে যাবে। শিক্ষকরাও স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চা করতে পারবেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড.এম এ কাইয়ুম বলেন, শুধু ভালো ফল করলেই হবে না-শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও গণমানুষের নেতা ড.এম এ কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজকেই এগিয়ে আসতে হয়। আব্দুল হাই–রাবেয়া ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে-মানুষ চাইলে শিক্ষার পাশে দাঁড়াতে পারে। আগামীতেও এরকম কাজ অব্যাহত থাকবে। 

তিনি আগামী ত্রয়োদশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

এছাড়া শিক্ষানুরাগী ড.এম এ কাইয়ুমের নিজ উদ্যোগে ঢাকা-১১ আসনে গড়ে উঠেছে বাড্ডা হাইস্কুল ও ঢাকা মহানগর কলেজেসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজের বাবা-মার নামে গড়ে তুলেন আব্দুল হাই -রাবেয়া ফাউন্ডেশন। 

অনুষ্ঠান শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।