প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১৬ জন, বাতিল ২

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে মোট ৪১৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে শেষদিনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান ২০ জন। তবে এদিন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর এবং কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

রোববার নির্বাচন ভবনে টানা ৯ দিনের আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সবাই অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টিও আমরা শিথিল করেছি।’

আরও পড়ুন: নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

সিইসি আরও বলেন, ‘আপনারা হয়তো আমাদের সমালোচনা করবেন, কিন্তু সহযোগিতা ছাড়া একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। আমার টিমের পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্বমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।’ এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে আমরা কষ্ট নিয়েই ছাড় দিয়েছি।’

এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মোট ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জমা পড়ে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র।

আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ প্রার্থী ঢাকা-১২, সর্বনিম্ন পিরোজপুর-১

৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এ সময় বৈধ ঘোষণা করা হয় ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে। বাতিল হওয়া ৭২৩টির মধ্যে প্রায় ৩৫০টি ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এবং বাকি মনোনয়নপত্রগুলো ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের।

দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপির ২৭, জামায়াতে ইসলামীর ৯, জাতীয় পার্টির ৫৭ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বিএনপির বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বেশিরভাগই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয় প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে মোট ৩৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জনের মধ্যে ৯ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জনের মধ্যে ৪১ জন এবং জাতীয় পার্টির ২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করা হয়। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ওঠে। তিনি আপিল শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় ইসি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে। তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে।

ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে করা আপিল নামঞ্জুর করা হয়। ইসি জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন। ফলে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তার আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।

তপশিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।