ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কী? কারা যোগ দিচ্ছে, কারা থাকছে বাইরে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই বোর্ডে পশ্চিমা মিত্রদের বড় অংশকে এখনো রাজি করাতে পারেননি ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাজতান্ত্রিক দেশ, ইউরোপের ‘শেষ স্বৈরশাসক’ হিসেবে পরিচিত এক নেতা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্তত একজন নেতার সমর্থন ইতোমধ্যে পেয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে বোর্ডটির এখতিয়ার এবং জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করতে পারে—এমন মন্তব্যে উদ্বিগ্ন হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বহু মিত্র দেশ।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ
কী এই ‘বোর্ড অব পিস’
প্রথমে গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন তদারকির উদ্দেশ্যে সীমিত পরিসরে বোর্ড অব পিস গঠনের ধারণা দেন ট্রাম্প। ইসরায়েল-গাজার দুই বছরের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে এই বোর্ডের কথা ওঠে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে
নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পরিকল্পনাটিকে সমর্থন দেয়।
তবে পরে বোর্ডটির পরিধি বাড়ানো হয়। খসড়া সনদ অনুযায়ী, বোর্ড অব পিস হবে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে সংঘাতপূর্ণ বা সংঘাত-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
এই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই—অনির্দিষ্টকালের জন্য, এমনকি দ্বিতীয় মেয়াদ শেষের পরও।
বোর্ডের নির্বাহী কাঠামোয় থাকছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
কারা যোগ দিচ্ছে
এখন পর্যন্ত বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে—
সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর, কাতার, বাহরাইন, পাকিস্তান, তুরস্ক, হাঙ্গেরি, মরক্কো, কসোভো, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও বোর্ডে যুক্ত হচ্ছেন, যদিও তুরস্ক ও কাতারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
এছাড়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, যারা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি করেছে, তারাও বোর্ডে অংশ নিতে রাজি হয়েছে।
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোও যোগ দিচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও অংশ নিতে সম্মত হয়েছেন, যদিও মস্কো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
কারা থাকছে বাইরে
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও নরওয়ে বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রাশিয়ার সম্পৃক্ততা এবং জাতিসংঘের সঙ্গে বোর্ডটির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে একই পরিষদে বসা তার দেশের পক্ষে অসম্ভব।
চীন আমন্ত্রণ পেলেও এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ইতালি সাংবিধানিক জটিলতার কথা বলে আপাতত দূরে রয়েছে।
কেন বিতর্ক
বোর্ডের সদস্যরা তিন বছরের জন্য নিযুক্ত হবেন। এরপর স্থায়ী সদস্য হতে হলে দিতে হবে ১০০ কোটি ডলার। এই অর্থ গাজার পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থা দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—ট্রাম্পের মন্তব্য যে, বোর্ড অব পিস ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, এই উদ্যোগ জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করবে না।
সূত্র: সিএনএন





