কাপাসিয়ায় ধানের শীষ বিজয়ী হলে হিন্দু-মুসলিমদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: শাহ রিয়াজুল হান্নান

Sanchoy Biswas
এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:২৩ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি রোববার দুপুরে উপজেলা সদরের বর্জুনা গ্রামের মন্দিরে আগত ভক্তবৃন্দদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান।

কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন আরজু এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খানের পরিচালনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তপন মাস্টার, রতন চন্দ্র দে, স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকা মোক্তার, সাধারণ সম্পাদক দীলিপ মজুমদার, বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন সৈয়দ, শাহিনা আক্তার প্রমুখ।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে শ্রমিক নেতাদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মাসুদ করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূর উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আশরাফুল আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান জামান প্রমুখ। এছাড়া বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: পাচারচক্রের হাত থেকে শিশু উদ্ধার, পাচারকারী নারী গ্রেফতার

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো। হিন্দু-মুসলিম সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

উপস্থিত মা-বোনদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখে।

পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোনো উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণসহ একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে।

মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহর প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই ‘ফকির মজনু শাহ সেতু’সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেননি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশপরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছোটখাটো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হতে পারবে। তাতে জমির দাম বাড়বে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।