হরমুজ প্রণালি নিয়ে স্বস্তি: বাংলাদেশসহ ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪০ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হবে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও ইরান এখন নির্দিষ্ট কিছু দেশকে এই রুট ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা: আল জাজিরা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বরং অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে পারাপারের জন্য তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

তিনি জানান, যেসব দেশকে ইরান ‘বন্ধু’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক। ইতোমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ১৫ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

তবে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর জন্য কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান। যেসব দেশ চলমান যুদ্ধে জড়িত বা ইরানের বিরোধী, তাদের জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন আরাঘচি।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ হয়।

শিপিং প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’ ও বিশ্লেষণ সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ পার হতে পেরেছে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।