‘জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫০ অপরাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য" এর পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই শুভেচ্ছা ও স্বাগতম। প্রথমেই আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল বীর শহীদসহ সকল বীর মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতি এবং বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে দেশ প্রেমিক সকল বীর শহীদ এবং আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আপনারা জাতির বিবেক। দেশ ও জাতি যখন কোন দূর্যোগ ও সঙ্কটাপন্ন অবস্থার সম্মুখীন হয় তখনই আপনাদের শরণাপন্ন হয়। আপনাদের বিবেচনা ও সঠিক বিশ্লেষন দ্বারা সু-পরিকল্পিত লেখনীর মাধ্যমে দেশের ও সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনগণ, অবহিত হন এবং সমাধানের কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করেন। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যখাত বিনির্মান একান্ত প্রয়োজন। তদুপলক্ষে একটি বৈষম্যহীন জনবান্ধব উন্নত ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পক্ষে আপনাদের সুবিবেচনাপ্রসূত লিখনীর মাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আপামর জনগনের সু-দৃষ্টি ও সার্বিক সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।

সম্মানীত সাংবাদিক ভাই/বোনেরা: গণমুখী স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) এবং মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের গুরুত্ব অপরিসীম। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। সুস্থ্য, সবল ও নীরোগ জাতী গঠনে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে স্বাস্থ্য সেক্টরে কর্মরত এসকল পেশাজীবিদের অবদান অনস্বীকার্য। জনগণের স্বাস্থোন্নয়নে এসকল পেশাজীবীগন নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বিভিন্ন অতিমারি, মহামারী যেমন কোভিড-১৯, ডেঙ্গু ইত্যাদি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, এ পেশাগুলো যুগের পর যুগ অবহেলিত, বঞ্চিত ও চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। জনগণের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পূর্বশর্ত দক্ষতা, উন্নত প্রশিক্ষন এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও যথাযযথ মূল্যায়ন এবং পেশাগত প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার প্রাপ্তির আশায় এসকল পেশাজীবিরা বার বার দাবী উত্থাপন করে বিগত প্রায় সকল সরকার, প্রশাসন দ্বারা বার বার প্রতারিত হচ্ছেন। দাবী বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ব্যবসায় জড়িত বিশেষ প্রভাবশালী মহল দ্বারা বাধাগ্রস্থ্য করা হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এসকল পেশাজীবিদের উন্নয়ন, উন্নত সেবা প্রাপ্তিতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ আর সুবিধাভোগী হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, ঔষধ কোম্পানি মালিকপক্ষ এবং স্বাস্থ্য ব্যবসায় জড়িত ঐ বিশেষ প্রভাবশালী মহল। বেসরকারি এ চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠী। তাই সীমিত জনবল ও সামর্থের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবাদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেতা জনাব তারেক রহমান এর স্বাস্থ্য সেক্টরকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা থেকে শুরু করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে, মহতি ও সুবিশাল পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন তার সফল বাস্তবায়নে জনগণকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে জড়িত নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের শিক্ষা, সার্ভিস, প্রশাসন এবং সামাজিক মর্যাদার উন্নয়নের কোন বিকল্প নাই। তাই বার বার দাবী উত্থাপন করে প্রতারিত হওয়া, উন্নয়ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন কুচক্রী মহল দ্বারা বাধাগ্রস্থ হওয়া এ পেশাসমূহের জাতীয় পেশাজীবি সংগঠনসূমহের নার্সিং পেশাজীবিদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ), ডিপ্লোমা নার্সদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা নার্সেস এসোসিয়েশন (বিডিএনএ), মিডওয়াইফদের জাতীয় পেশাজীবি সংগঠন বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের জাতীয় পেশাজীবি সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিডিএমএ), ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জাতীয় পেশাজীবি সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন (বিডিপিএ) এবং বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ (বিডিপি) এবং মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদে জাতীয় নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে- "জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য" যা আগামীদিনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কার্যক্রমমকে আরো বেশি সমৃদ্ধ ও ত্বরান্বিত করবে।

আরও পড়ুন: বনশ্রীতে যাত্রা শুরু করলো মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং

সম্মানীত সহযোদ্ধা গণমাধ্যকর্মীগণ আপনারা অবগত রয়েছেন যে, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য শিক্ষা জোরদারের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে আরো বেশি কার্যকর করা, পর্যাক্রমে দেশের প্রতিটা উপজেল কে ৩২/৫০ শয্যা থেকে বৃদ্ধি করে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা, জেলা সদর হাসপাতাল এবং জেলায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ICU, NICU, CCU, Dialysis ইউনিটস্থাপন, হৃদরোগ- কিডনী রোগ-ভাসকুলার সার্জারী সম্পর্কীয় ডিভাইস ও যন্ত্রাংশে মোটা দাগে শুল্ক মওকুফ, ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় কমানো এমনকি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেতা জনাব তারেক রহমান মহতি ও সুবিশাল পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকল শূণ্য পদসমূহ সহ স্বাস্থ্যখাতে এক লক্ষ্য স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা প্রদানসহ বর্তমান সরকারের

প্রথম বাজেটেই সর্বোচ্চ বরাদ্ধ রেখেছেন। তার সফল বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতাধরে রাখতে স্বাস্থ্য সেক্টরে নিয়োজিত সকল স্বাস্থ্য পেশাজীবি বা স্বাস্থ্য কর্মীদের আরো উন্নত শিক্ষা, সেবা প্রদানে আরো বেশি যোগ্য-দক্ষ ও বিজ্ঞান ভিত্তিক হিসাবে গড়ে তুলা এবং সেবা প্রদানে আরো বেশি আগ্রহী, উৎসাহী ও মর্যাদাশীল করে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। স্বাস্থ্য সেক্টরকে সত্যিকার অর্থে একটি জনক্যালণমুখী ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেতা জনাব তারেক রহমান এবং বর্তমান সরকার যে বিশাল পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন তার মাঝেই আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশ, মানুষ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে আজীবন আপোষহীন নেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। এই বিশাল পরিকল্পনা গ্রহন করায় আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেতা জনাব তারেক রহমান এবং সদাশয় সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, অভিবাদন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদাশয় সরকার ও প্রশাসনকে সর্বাত্বক সহযোগীতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।

আরও পড়ুন: বনানীতে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৭ জন আটক, উদ্ধার ৭০টি মশাল

একইসাথে স্বাস্থ্য ব্যবসায় জড়িত বিশেষ প্রভাবশালী মহল দ্বারা বার বার বাধাগ্রস্থ্য হওয়া নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত ও সামাজিক উন্নয়নসমূহ ইতোপুর্বের ন্যায় বাধাগ্রস্থ্য না হয়ে বর্তমান সরকারের আমলে বাস্তবায়ন হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি এবং কোন বিশেষ গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তি বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টা করে তবে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে তা মোকাবিলা করে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগীতা করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।

জাতির বিবেক সম্মানীত সাংবাদিক বৃন্দ আপনারা নিশ্চয় একমত হবেন যে, বাংলাদেশের মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যার সঠিক ব্যবস্থা নিতে না পারলে সমাজ, রাষ্ট্রের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। যেকোন পেশার গুণগত উন্নয়ন সাধন এবং প্রাপ্য মর্যাদা প্রাপ্তি ঐ পেশার মানুষদের সেবা প্রদানে যেমন উৎসাহীত ও অনুপ্রাণীত করে তেমনি শিক্ষিত উপযুক্ত প্রার্থীদের আত্মনিয়োগে আগ্রহী করার মাধ্যমে ঐসব পেশাগুলোকে সমৃদ্ধ করে। তাই দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ব্যাপক চাহিদা থাকা নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাসমূহের শিক্ষা, সার্ভিস ও পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবী রাখলেও স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও এসকল পেশার গুণগত উন্নয়ন সাধন হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ গোষ্ঠী ও ব্যক্তি স্বার্থে অবহেলা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বৈষম্য সৃষ্টি, অবনত বা বিলুপ্ত করারও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিগত সকল সরকারের আমলেই ন্যাশনাল হেলথ পলিসি মেকিংএ এসকল পেশাজীবিদের কোন রকম প্রতিনিধি না রেখে এবং কোনরুপ মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই পলিসি নির্ধারণ করায় একপেশে পলিসি তৈরী ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার ফলসরূপ এসব পেশাজীবিদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা দিন দিন অবনমিত হচ্ছে এবং কাঙ্খিত সবার জন্য স্বাস্থ্য বা জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা লাভ করছেনা। যার বাস্তব চিত্র নিম্নে আলোচনা করা হলো: সমশিক্ষার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ গণের ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণী) পদমর্যাদা প্রদান করা হলেও এসএসিএমওম, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দীর্ঘ ২০ বছরেও ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণী পদমর্যাদা প্রদান না করা এবং সুকৌশলে নতুন নতুন জটিলতা সৃষ্টি করা।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্র, পরিদপ্তর থেকে উন্নীত হওয়া অধিদপ্তরের স্ট্যন্ডার্ড সেট-আপ, নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম দীর্ঘ ১০ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়া, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলেও ৯ম গ্রেড থেকে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত শূণ্য পদগুলোতে বিগত বিশ বছরেও পদোন্নতি প্রদান না করা এবং শিক্ষার বৈষম্য ও উচ্চশিক্ষার মূল্যায়ন না করা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত ওয়ার্কিং সার্কেলের আলোকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের ডিএমএফ এর ন্যায় বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক পেশাগত নিবন্ধনসহ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্বতন্ত্র কাউন্সিল কৃর্তক পেশাগত নিবন্ধন প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী চিকিৎসকগণের আনুপাতিক হারে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগদানে উদসীনতা এবং সমন্বিত পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের আবশ্যিকতা থাকলেও তা অনুসরণ না করা।

৫। আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করতে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষন এবং মর্যাদা প্রদান না করা করা এবং সকল স্বাস্থ্য শিক্ষায় যথাযথ গুরত্ব না দেয়া এবং সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি করা।

৬। নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাসমূহের প্রতি প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বৈষম্যমূলক আচরন করা এবং ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

সকল বৈষম্যের প্রতিবাদী জাতির বলিষ্ট কন্ঠস্বর, বৈষম্য, অবিচার দূর করতে এবং ন্যয্যতা ও ন্যায় ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর সৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই/২৪ এর ফ্যাসিবাদ ও সৈরাচার বিরোধী আন্দোলণে সম্মানীত গণমাধ্যমকর্মীদের রয়েছে অবিস্মরনীয় অবদান। আপনাদের পাশাপাশি এসব গণদাবীতে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবিরাও স্ব-স্ব পরিমন্ডলে অবদান রাখতে সমর্থ্য হয়। আমরাও আপনাদের মতই পেশাজীবি এবং রাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক।

বিদ্যমান অব্যস্থাপনা বা সৃষ্ট জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা দ্বারা যখন কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠি, সমাজ বৈষম্যের শিকার হয়ে উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্থ হয়, আর তা যদি দেশের জনগণের সেবা পাওয়ার অধিকারকে সঙ্কুচিত করে এবং জনস্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সরাসরি বিপরীত মুখী হয় তখনই সম্মানীত গণমাধ্যমকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব তা সরকার, রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং সবস্তরের জনগনকে অবহিত করে তা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করা।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থারউন্নয়নে সরকারে গৃহীত মহাপরিকল্পণা যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বাত্বক সহযোগীতায় মানসিকভাবে প্রস্তুত হলেও পেশাগতভাবে প্রস্তুতির জন্য আমরা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত প্রায় সকল পেশাজীবিরা পেশাগত জীবনে নানাবিধ বৈষম্য, অবহেলা, নিপীড়নের শিকার হয়ে আজ "জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য" এর পক্ষ থেকে কিছু যৌক্তিক প্রস্তাবনা তুলে ধরছি।

১। প্রায় ২০ বছরের অধিক সময় ধরে গড়িমসি পরিহার করে সমশিক্ষার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ন্যায় ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অতিসত্বর ১০ম গ্রেড (২য়-শ্রেণী) পদ মর্যাদা প্রদান করা।

২। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত বা ভিন্ন অধিদপ্তেের একিভূত করার ষড়যন্ত্র চিরতরে ভুলে যাওয়া, অধিদপ্তরের স্ট্যন্ডার্ড সেট-আপ, নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন ও অনুমোদনসহ প্রস্তাবিত পদসমূহকে আপগ্রেগশন করতঃ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ৯ম গ্রেড থেকে ৪র্থ গ্রেডের সকল শূণ্য পদগুলোতে পদোন্নতি প্রদান সহ সুপার নিউমারারি পদোন্নতি প্রদান করা।

৩। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত ওয়ার্কিং সার্কেলের আলোকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের ডিএমএফ এর ন্যায় বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক পেশাগত নিবন্ধনস মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্বতন্ত্র কাউন্সিল কৃর্তক পেশাগত নিবন্ধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা।

8। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী চিকিৎসকগণের আনুপাতিক হারে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগদানসহ সমন্বিত পদ সৃষ্টি ও নিয়োগর ব্যবস্থা রাখা।

৫। আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করতে নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষন এবং মর্যাদা প্রদান করা এবং শিক্ষায় বৈষম্য দূর ও উচ্চশিক্ষার মূল্যায়ন করা।

৬। সংশ্লিষ্ট বিভাগ, প্রশাসন কর্তৃক নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাসমূহের প্রতি প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বৈষম্যমূলক আচরন পরিহার করে ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।

প্রিয় সহযোদ্ধা গণমাধ্যম সহকর্মীগণ: দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে অবহেলা, অপ্রাপ্তি ও বৈষম্যের শিকার নার্স, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এসএসিএমও এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জাতীয় পেশাজীবি সংগঠনসমূহের সমন্বয়ে গঠিত "জাতীয় স্বাস্থ্য পেশাজীবী ঐক্য"

কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আমাদের বক্তব্য পেশাগত সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাবনাগুলো ধৈর্য্য ও মনযোগসহকাওে শুনার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এগুলো শুধুমাত্র আমাদের প্রস্তাবনা বা দাবী নয়, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সৃষ্টির পূর্ব শর্ত যা বিবেচনা যোগ্য যৌক্তিক উপস্থাপনা। দেশের জনগণের জন্য গুণগত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত এ মহান কর্মে আপনাদের আন্তরিকতা ও বলিষ্ট লেখনীর মাধ্যমে সরকার, প্রশাসন উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ সমাধানকল্পে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এই প্রত্যাশা করছি।