ঢাবিতে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

Sanchoy Biswas
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৬ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময় জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-সংলগ্ন মল চত্বরে স্মৃতি স্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন উপাচার্য। পরে সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুল ভর্তিতে ফিরতে পারে লটারি পদ্ধতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, শহীদ পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি এবং আহত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকালে উপাচার্যের সভাকক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোঁজখবর নেন।

আরও পড়ুন: ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

আলোচনা সভা পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দুঃশাসন ও বৈষম্যের মাধ্যমে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। জুলাইয়ের মূল শিক্ষা হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয় ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ, ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন, আলোকচিত্র ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং জুলাই যোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিনের অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ধারাবাহিকতার ফলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তিনি আন্দোলনকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর বয়ানের নিন্দা জানিয়ে মানবতাবিরোধী ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাগলে বাংলাদেশ জাগে।’

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মীর মুগ্ধর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ ইয়ামিনের পিতা মহিউদ্দিন এবং শহীদ মো. আবু সাঈদ মিয়ার ভাই আবু হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীও আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।