জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করল আনসার-ভিডিপি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৬ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। একই সঙ্গে বাহিনীর সব রেঞ্জ, জেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আনসার, ব্যাটালিয়ন এবং উপজেলা কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।

আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, এড়িয়ে চলবেন যেসব রাস্তা

দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অবস্থিত ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আনসার ও ভিডিপি হাসপাতালে রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ, জাতি ও বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

আরও পড়ুন: জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের নিরাপত্তা জোরদার

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন স্তরের অনৈতিক চর্চা, অপেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার অভাব জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করাই প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সাম্য, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে বাহিনীর বিভিন্ন সেবা ও জবাবদিহিতা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সেবার মান আরও উন্নত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মহাপরিচালক বলেন, চলমান প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ফলে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাহিনী জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈষম্য দূরীকরণ, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং নতুন বাংলাদেশের রূপান্তরের অভিযাত্রা নিয়ে নির্মিত আটটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহাপরিচালক উপস্থিত সদস্যদের এসব প্রামাণ্যচিত্রের শিক্ষা ও মূল্যবোধ আত্মস্থ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর উপমহাপরিচালক, পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সদস্য-সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন।